মিসেস মনাদা

১)

আমরা আড়ালে মনাদা কে মিসেস মনাদা বলি, তাকে নিয়ে হাসাহাসিও করি অনেক।তবে মনাদা মানুষ ভালো, সাদাসিধে। আসল নাম মনোজ বিশ্বাস।

মনাদাকে মিসেস মনাদা বলার পেছনে একটা ঘটনা আছে। ঘটনাটা অবশ্য সে নিজেই আমদের বলেছে।

মনাদা বিয়ে করে প্রেম করে।বৌদির নাম মালতী রানি চক্রবর্তী।তা ব্রাহ্মণ হওয়ার কারণেই কিনা কে জানে, বৌদি তার নামের লেজটুকু কিছুতেই পরিবর্তন করবে না।মনাদাও তেমন জোড় দেয়নি। হাজার হোক একমাত্র বৌ বলে কথা।কিন্তু কে জানতো যে, এর ফলটা ঠিক কি হবে?

একদিন কুরিয়ার সার্ভিস থেকে লোক এলো।দরজার বেল চাপতেই কাজের মেয়ে সখিনা বেড়িয়ে এলো।

‘কাকে চাই?’ সখিনার প্রশ্ন।

‘মালতী রানি চক্রবর্তীর একটা কুরিয়ার আছে।’ – দরজায় দারান কুরিয়ারের লোকটি বলল।

‘উনি তো বাড়িতে নেই।’

‘তাহলে মিঃ চক্রবর্তীকে দেকে দিন।’ – লোকটি বলল।

‘মিঃ চক্রবর্তী!’ – সখিনা অবাক।

‘কেন? উনিও নেই বুঝি?’

সখিনা কি বলবে ঠিক বুঝতে পারলো না, ‘আচ্ছা আপনি দাঁড়ান আমি আসছি’ – এই বলে হুড়মুড় করে ভেতরে ছুটল।

সখিনা কোনরকমে মনাদার ঘড়ে ঢুকেই হড়বড় করে বলল – ‘কুরিয়ারের লোক এসেছে, মিঃ চক্রবর্তীকে খুঁজছে।’

‘কি!’ – মনাদা বিস্মিত।

২)

একটা উদীয়মান রাগ নিয়ে মনাদা দরজায় এসে দাঁড়াল।‘বলুন’ গম্ভীরভাবে কুরিয়ারের লোকটিকে বলল।

‘আপনি মিঃ চক্রবর্তী তো, মিসেস চক্রবর্তীর একটা কুরিয়ার আছে। একটা স্বাক্ষর দিয়ে রেখেদিন।’ কুরিয়ারের লোকটি প্রফেশনাল প্লাস্টিক হাসি হেসে বলল।

‘আমি মিঃ চক্রবর্তী নোই।’ – মনাদা গম্ভীর।

‘ও উনিও নেই?’

‘আছে, না নেই।’ – মনাদা কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না।

‘আছে আবার নেই, মানে আমি ঠিক…’

‘এ বাড়িতে কোন মিঃ চক্রবর্তী নেই।’ – মনাদার সাফ কথা।

‘তাহলে আপনিই রেখে দিন, উনি যখন নেই।’

‘আছে।’

‘আছে? আপনিই তো বললেন নেই।’ – কুরিয়ারের লোকটি এবার বিরক্তই হচ্ছে।

‘দেখুন, আপনি যাকে খুঁজছেন সে আমিই কিন্তু আমি মিঃ চক্রবর্তী নোই।’ – মনাদা দাঁত কিড়মিড় করে বলল।

‘জী?’ – লোকটি আবারো অবাক।

‘জী।’ – মনাদার উত্তর।

‘আচ্ছা মিসেস চক্রবর্তীর সাথে আপনার সম্পর্কটা ঠিক কি বলবেন?’

‘উনি আমার স্ত্রী।’

‘উনি আপনার স্ত্রী কিন্তু আপনি মিঃ চক্রবর্তী নন…’ – লোকটি হিসাব মিলাতে পারছে না।

‘জী না, আমি মিঃ বিশ্বাস।’

‘ও তাহলে কি নামের পদবিটা ভুল লিখেছে?’

‘না ওটা ঠিকই আছে।’

‘কিন্তু…’

‘দেখুন, উনি উনার বাবার লেজটাই এখনো ধরে আছেন।’

‘মানে?’ – কিছুই বুঝতে পারলনা লোকটা।

‘মানে, উনি বাবার পদবিটাই ব্যবহার করেন।’ – মনাদা আবারও গম্ভীর।

‘ও…. এতক্ষণে বুঝলাম।’ – আবার প্লাস্টিক হাসি হাসল লোকটা।

Advertisements